সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবসিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধের ভাঙন মেরামতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে খোলপেটুয়া নদীর ভাঙন পয়েন্টের ৬২ মিটার এলাকা জুড়ে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। আগামী রবিবার নাগাদ ভাঙন পয়েন্টে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খোলপেটুয়া নদীর প্রবল স্রোতের টানে গত ৫ এপ্রিল সকালে সাতক্ষীরার পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের কাকবসিয়া খেয়াঘাটের উত্তর পাশে প্রায় ৫০ মিটার এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধে হঠাৎ ধস দেখা দেয়। এতে বাঁধের গোড়া থেকে মাটি ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ক্রমশঃ ভাঙন দীর্ঘায়িত হয়ে প্রায় ৬২ মিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃতি লাভ করে।
আনুলিয়া নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু দাউদ মোড়ল জানান, খোলপেটুয়া নদীর প্রবল স্রোতের টানে রবিবার সকালের দিকে কাকবসিয়া খেয়াঘাটের উত্তর পাশে পাউবো’র বেড়িবাঁধের গোড়ায় হঠাৎ করে ধস দেখা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে বাঁধের গোড়া থেকে প্রায় ৫০ মিটার এলাকা জুড়ে মাটি ধসে নদী গর্ভে চলে যায়। সাথে সাথে ভাঙনের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য রবিউল বাশার ও পাউবো কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।’
এদিকে হঠাৎ করে বেড়িবাঁধে ধস দেখা দেওয়ায় ওই এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা দ্রুত ভাঙন পয়েন্টে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়। বিষয়টি অবগত হওয়ার সাথে সাথে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঁধের ভাঙন মেরামতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধের ভাঙন মেরামতে একটি প্যাকেজের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগপূর্বক জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করে পাউবো কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ও পাউবো কর্তৃপক্ষের তদারকিতে গত দু’দিন ধরে ভাঙন পয়েন্টে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শেষ হতে পারে বলে জানা গেছে।
সাতক্ষীরার পাউবো বিভাগ-২ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম জানান, ‘ভাঙনের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাঙন পয়েন্টে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করি। পরে একজন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সেখানে কাজ চলছে।’
সাতক্ষীরার পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ‘ পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের কাকবসিয়া খেয়াঘাটের উত্তর পাশে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধের বাইরে একটি মাটির ঘর ছিল। রবিবার সকালে হঠাৎ করে ওই ঘরের পাশে বেড়িবাঁধের গোড়ায় ধস দেখা দেয়। একপর্যায় প্রায় ৬২ মিটার এলাকাজুড়ে বেড়িবাঁধের গোড়ার মাটি নদীতে ধসে পড়ে। বিষয়টি জানার পর ভাঙনরোধে আমার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করি। জরুরি ভিত্তিতে একজন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে একটি প্যাকেজে সেখানে কাজ শুরু করা হয়েছে। ভাঙন পয়েন্টে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। আশা করছি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। পরে বাঁধের মাটির কাজসহ ভাঙন প্রতিরোধে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ করা হবে। আপাতত বেড়িবাঁধটি সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত বলে জানান তিনি।
খুলনা গেজেট/এনএম

